শ্রীল মধ্বাচার্য - মিথ্যা কাহিনী তৈরি ও নিন্দা সমগ্র

 

  • শ্রীল মধ্বাচার্যের বেদ-অর্থবিকৃতি 
শ্রীল মধ্বাচার্য ব্রহ্মসূত্র ভাষ্যের সময় ঋগ্বেদের মন্ত্র [১০.১২৫.৬] উদ্ধৃত করে বলেছেন, পশুপতি (রুদ্র) জগতের কারণ নয় কেননা উক্ত মন্ত্রে বলা হয়েছে, 'আমি রুদ্রের বিরুদ্ধে ধনু বিস্তার করি, যে রুদ্র কিনা ব্রহ্মদ্বেষী তার বধের জন্য'। কিন্তু উক্ত মন্ত্রে 'রুদ্রায় ধনুরা তনোমি ব্রহ্মদ্বিষে শরবে হন্তবা উ' দ্বারা রুদ্রের জন্য ধনুতে জ্যা বিস্তারের উল্লেখ আছে, বিরুদ্ধে নয়।
সূত্র: ব্রহ্মসূত্র ~ শ্রীল মধ্বভাষ্য তত্ত্বদীপিকাসহিত > ২.২.৩৭
 

  • শ্রীল মধ্বাচার্যের শিবনিন্দা ও অমৃতমন্থন নিয়ে মিথ্যা কাহিনী তৈরি 
 
শ্রীল মধ্বাচার্যের তৈরি কাহিনী অনুযায়ী, অমৃতমন্থনে কালকূট নামের বিষ উত্থিত হয়। বায়ু ঘনত্ব কমিয়ে শিবকে দিলে তা গলা অব্দি পৌঁছানো মাত্র শিব অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে হরির স্পর্শে জ্ঞান ফিরে পায়। বায়ু ঘনত্ব না কমিয়েই কালকূট পান করে। সামান্য কালকূট পানেই শিবের মাথাব্যথা ধরে যায়।
সূত্র: শ্রীমন্মহাভারততাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ১০.১৫-১৭
 

  • মধ্বাচার্যের শিব-কেদারনাথ তীর্থ নিন্দা ও মিথ্যা কাহিনী তৈরি
শ্রীল মধ্বাচার্য লিখেছেন, ভীমের উক্তিতে যে, একবার ভীম ও ব্রাহ্মণ ছদ্মবেশী রুদ্রের মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ হয়। তাতে পরাজিত হয়ে ভয় পেয়ে রুদ্র লিঙ্গরূপ ধারণ করে এবং লজ্জিত হয়ে এই অভিশাপ দেয়, এই কেদারক্ষেত্র বেদবিৎদের জন্য নিষিদ্ধ। অর্থাৎ যারা বেদবিদ্যাহীন তারাই কেদারনাথে যাবে।
সূত্র: শ্রীমন্মহাভারততাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ২০.২৩
 
 
  •  ভীমের হাতে হাতিরূপী শিবের পরাজয় - মধ্বাচার্যের কল্পনা
 
শ্রীল মধ্বাচার্যের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন ভীম সাগরে সাঁতার কেটে বাণাসুরের নগরে পৌঁছে যায় তখন শিব হাতির রূপ ধরে তার সাথে যুদ্ধ করতে আসে। ভীম হাতিরূপী শিবকে যুদ্ধে পরাজিত করে। শিবও এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় খুব খুশি হয়।
সূত্র: শ্রীমন্মহাভারততাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ২১.১৯১
 

 

  • মধ্বাচার্যের ব্যাঘ্রেশ্বর ও শার্দূল লিঙ্গ নিন্দা এবং মিথ্যা কাহিনী তৈরি
 
শ্রী মধ্বাচার্যের মত অনুযায়ী, ভীম বলছেন, 'একদা শিব আমাকে পরীক্ষার জন্য একটি বাঘের রূপ ধরে এসে কপিলা গাভীরূপী পার্বতীকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। আমার গদার প্রহারে শিব অজ্ঞান হয়ে যায় ও লিঙ্গরূপ ধারণ করে, এটিই 'ব্যাঘ্রেশ্বর লিঙ্গ' নামে খ্যাত। হিমালয়ের নিকটে গোমতীর তীরে আরেকটি যুদ্ধে শিব পরাজিত হয় ও 'শার্দূল লিঙ্গ'-রূপ ধারণ করে'।
উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ কাহিনীটি যা মধ্বাচার্য লিখেছেন কোথাও পাওয়া যায় না।
সূত্র: শ্রীমন্মহাভারততাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ২০.২১-২২
 

 
✅বিষ্ণু শ্রদ্ধা ব্যতীত বাকি সব দেবতা-শ্রদ্ধা তামসিক - শ্রীল মধ্বাচার্য 

❝যারা ব্রহ্মাদি দেবতাকে বিষ্ণুর থেকে বড় বা সমান ভাবে বা অন্যদের ব্রহ্ম ভাবে তাদের শ্রদ্ধাকে 'তামসিক' বলে। তাদের অর্থাৎ শিব, স্কন্দ ও ভূত-প্রেতাদির প্রতি প্রার্থনার ফল তামসিক হয় কেননা শিব-স্কন্দাদি দেবতা অত্যন্ত তামসিক।❞

~ শ্রীল মধ্বাচার্য 

▪️সূত্র: গীতাতাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ১৭.৪
 

 
 
🔲 শিব-বিষ্ণু / হরি-হর অভেদ ~ পুরাণের এসব কথাবার্তা মানুষকে 'মোহিত' করার জন্য
 
“বিষ্ণু-শিবে সাম্য, সবার মধ্যে অভেদ, হরির সাথে মুক্তিতে অভেদ, হরি-হরে অভেদ এই সকলই মানুষকে মোহিত করার জন্য রচিত। স্কন্দ-পদ্মপুরাণের এসব অংশ শিবেরই কথিত যা বিষ্ণু তাকে আগে শিখিয়ে দিয়েছিলেন মানুষকে মোহগ্রস্ত করতে, যিব সেসবই উমাকে বলেছেন।”
🎙️~ বলেছেন শ্রীল মধ্বাচার্য
 
▪️সূত্র: শ্রীমন্মহাভারততাৎপর্যনির্ণয়ঃ > ১.৫২-৫৬
 

 
 

Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম